Image default
জীবনী

স্টিভ জবস এর জীবনী

কম্পিউটার ও প্রযুক্তিকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে যাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাদের মাঝে স্টিভ জবস অন্যতম প্রধান । তিনি এ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন । প্রযুক্তিতে তাঁর অবদান সবারই জানা ।  তিনি তাঁর কাজ দিয়ে বিশ্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন । তাঁর জীবন ছিল পৃথিবীকে বদলে দেয়ার এক বৈপ্লবিক যাত্রা । পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দেয়ার যাত্রায় তাঁকে কোন ধরনের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে । কি ধরনের বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল । তাঁর পারিবারিক জীবন কেমন ছিল । ছাত্রজীবনে তিনি কেমন ছাত্র ছিলেন । স্টিভ জবসের জীবনের জানা-অজানা ঘটনাবলী নিয়ে আজকের নিবন্ধ সাজানো হয়েছে ।

স্টিভ জবস এর জীবনী

স্টিভ জবস ছিলেন একজন আমেরিকান উদ্ভাবক, ডিজাইনার এবং এ্যাপল কম্পিউটারের সহ উদ্যোক্তা, সিইও ও চেয়ারম্যান । এ্যাপল এর বিশ্বখ্যাত পন্য আইপড, আইপ্যাড, আইফোন এবং আইম্যাককে ধরা হয় বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির শুরুর ধাপ হিসেবে । এই সবগুলো আইটেমের পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান ।

একনজরে
জন্ম১৯৫৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী
পিতা – মাতাজান্দালি ও জোয়ান
স্ত্রী লরেন পাওয়েল
শিক্ষাতিনি প্রচন্ড মেধাবী কিন্তু পড়ালেখায় অমোনযোগী ছিলেন । তিনি কলেজ থেকে ড্রপ আউট হন
আবিষ্কারআইপড, আইপ্যাড, আইফোন এবং আইম্যাক
চেয়ারম্যান  এ্যাপল
সম্পদএক হাজার দুইশ কোটি মার্কিন ডলার।
মৃত্যু২০১১ সালে অগ্নাশয়ের ক্যান্সারে জবস মৃত্যুবরণ করেন।
স্টিভ  জবস এর জন্ম

জবসের জন্ম হয় ১৯৫৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী । জবসের জন্মদাতা পিতা জান্দালি একজন সিরিয়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন । তাঁর জন্মদাত্রী মা জোয়ান ছিলেন একজন স্পিচ থেরাপিস্ট । যাঁরা জন্মের পর পর তাঁদের ছেলেকে দত্তক দিয়ে দেন ।

স্টিভ  জবস এর শিক্ষা

ছোটবেলা থেকেই জবস ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমান কিন্তু পড়ালেখার প্রতি লক্ষ্যহীন । তাঁর বাল্য ও কৈশর কালে তিনি কখনওই সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট ছিলেন না । কিন্ডারগার্ডেন পর্যায়ে তিনি বিরক্তি কাটাতে স্কুলের বন্ধুদের সাথে নানান ধরনের দুষ্টুমি করতেন । এমনকি তাঁকে পড়াশুনা করানোর জন্য তাঁর চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষক তাঁকে ঘুষ পর্যন্ত দিয়েছিলেন । তিনি কলেজ থেকে ড্রপ আউট হন । ১৯৭৬ সালে স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে এ্যাপল শুরু করার আগ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে নিজে নিজে পরীক্ষা নীরিক্ষা চালাতে থাকেন ।

বাল্য জীবন

জবসের জন্মদাতা পিতা জান্দালি একজন সিরিয়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন । তাঁর জন্মদাত্রী মা জোয়ান ছিলেন একজন স্পিচ থেরাপিস্ট । তারা তাদের পুত্র সন্তানকে জন্মের পরপরই দত্তক দিয়ে দেন । উল্লেখ্য তখন তারা অবিবাহিত ছিলেন । জবসকে দত্তক হিসেবে দেয়ার অল্প কিছুদিন পরেই এই দুইজন বিয়ে করেন এবং মোনা সিম্পসন নামে তাঁদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয় ।

আরো পড়ুন

জর্জ বার্নার্ড  শ এর জীবনী

সেই সময়ে জবস এবং তার বোন মোনা যখন পরস্পরকে খুঁজে পান, দুই ভাইবোন একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলেন । কিন্তু জবস তাঁর বাবা – মায়ের  কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে মোনাকে সোজা মানা করে দেন । জন্মদাতার প্রতি একটা অভিমান জবস সারাজীবনই অন্তরে পুষে রেখেছিলেন । মা জোয়ানের প্রতি অবশ্য তাঁর এই রকম মনোভাব ছিল না । কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন জিন্দালির জোরাজুরিতেই আসলে তার মা ছেলেকে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ।

নবজাতক জবসকে দত্তক হিসেবে নিয়েছিলেন পল এবং ক্লারা জবস নামের এক দম্পতি । তাঁরা তাঁদের পালক পুত্রের নাম রাখেন স্টিভেন ‘পল’ জবস । ক্লারা ছিলেন একজন হিসাবরক্ষক । সাবেক কোস্টগার্ড পল তখন একজন মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। পল ও ক্লারা দম্পতি তাদের পুত্রকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউ নামক এলাকায় বসবাস করতেন ।

তাঁরা যেখানে বসবাস করতেন সেই এলাকাটি পরবর্তী সময়ে সিলিকন ভ্যালি হিসেবে বিখ্যাত হয়ে ওঠে । বাল্যকালে জবস তাঁর পালক পিতার সাথে তাঁদের পারিবারিক গ্যারেজে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতে ভাল বাসতেন । পল তাঁর পালক পুত্রকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি খোলা ও লাগানোর বিভিন্ন কৌশল দেখিয়ে দেন । যা বালক জবসের ভেতরে যন্ত্র ও কারিগরি বিষয়ে আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল ।

পারিবারিক জীবন

স্টিভ জবস  ১৯৯১ সালের ১৮ই মার্চে লরেন পাওয়েলকে বিয়ে করেন । পাওয়েলের সাথে জবসের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলে । পাওয়েল তখন সেখানে এম বি এ কম্পিলিট করছিলেন । দাম্পত্য জীবনে তারা তাঁদের তিন সন্তানের  সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে তাঁরা বসবাস করতেন ।

যদিও জবস তাঁর পরিবার সম্পর্কে কাউকেই তেমন কিছু বলতেন না, তবে এটা জানা যায় যে লরেনের সাথে তাঁর তিন সন্তানের বাইরেও ২৩ বছর বয়সে প্রেমিকা ক্রিসান ব্রেনানের গর্ভে লিসা নামে তাঁর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছিল । আদালতে অবশ্য তিনি নিজেকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম দাবী করে লিসার পিতৃত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করেছিলেন । জবস এর বান্ধবী ক্রিসান তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়েই অর্থনৈতিক অভাবের মধ্যে ছিলেন, এবং জবস তাঁর কন্যা লিসার সাথে তার সাত বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনও প্রকার যোগাযোগ করেননি । পরবর্তীতে লিসা কিশোর বয়স থেকে বাবার সাথে বসবাস করতে শুরু করেন ।

স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে পরিচয়

হোমস্টেড হাইস্কুলে ভর্তির সময়ে জবস তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক অংশীদার ও এ্যাপল কম্পিউটারের সহ উদ্যোক্তা স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন । ওজনিয়াক তখন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ছাত্র ছিলেন ।

ওজনিয়াক ২০০৭ সালে ’পিসি ওয়ার্ল্ড’ এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন: “আমরা দুজনেই ইলেক্ট্রনিকস ও ডিজিটাল যন্ত্রপাতি জোড়া লাগানোর ব্যাপারটা ভালবাসতাম । বিশেষ করে সেই সময়ে যখন ডিজিটাল চিপস কি করতে পারে, সেই বিষয়ে খুব অল্প মানুষেরই ধারনা ছিল । আমি আগে বহু কম্পিউটার ডিজাইন করেছিলাম, কাজেই আমি ইলেক্ট্রনিকস ও কম্পিউটার ডিজাইনের ব্যাপারে তার থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু আমাদের দু’জনের আগ্রহের জায়গা একই ছিল ।

আরো পড়ুন

আলফ্রেড নোবেল এর জীবনী
এ্যাপল কম্পিউটার

১৯৭৬ সালে জবসের বয়স যখন মাত্র ২১, ওজনিয়াকের সাথে মিলে তিনি তাঁদের পারিবারিক গ্যারেজে এ্যাপল কম্পিউটার এর কাজ শুরু করেন । জবস নিজের ভোক্সওয়াগন গাড়ি, এবং ওজনিয়াক নিজের প্রিয় সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর বিক্রি করে এ্যাপলের প্রাথমিক মূলধনের যোগান দিয়েছিলেন ।

ওজনিয়াক বেশ কিছু সহজে ব্যবহার যোগ্য কম্পিউটার তৈরী করেন এবং জবসের দূরদর্শী মার্কেটিং এর ফলে এ্যাপলের প্রতিটি কম্পিউটার সেই সময়ে ৬৬৬.৬৬ মার্কিন ডলারে বিক্রয় করা হত ।

‘এ্যাপল ১’ তাঁদের প্রতিষ্ঠানের এ্যাকাউন্টে ৭৭৪,০০০ মার্কিন ডলার যোগ করেছিল. এর তিন বছর পর এ্যাপল যখন তাদের দ্বিতীয় মডেল ’এ্যাপল ২’ বাজারে ছাড়লো, তখন কোম্পানীর বিক্রী ৭০০ শতাংশ বেড়ে ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে পৌঁছালো ।

এ্যাপলের পরবর্তী কয়েকটি পন্য ডিজাইনের সমস্যার কারনে ক্রেতাদের হতাশ করে । সেই সময়ে আইবিএম বিক্রয়ের দিক দিয়ে এ্যাপলকে ছাড়িয়ে যায় এবং এ্যাপলকে আইবিএম কম্পিউটারের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিঁকে থাকতে হয় ।

পিক্সার

জবস, ১৯৮৬ সালে জবস জর্জ লুকাসের কাছ থেকে পিক্সার এ্যানিমেশন কোম্পানী কিনে নেন, যেটি পরবর্তীতে পিক্সার স্টুডিওস হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । পিক্সারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিক বিবেচনা করে জবস তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এই কোম্পানীতে বিনিয়োগ করেন । পরবর্তীতে স্টুডিওটি থেকে টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমো, এমনকি দি ইনক্রেডিবল্‌স এর মত জনপ্রিয় সিনেমা বের হয় । এই সময় পিক্সার কোম্পানীর নীট আয় দাঁড়ায় ৪ বিলিয়ন ডলারে । ২০০৬ সালে পিক্সার ওয়াল্ট ডিজনির সাথে এক হয়ে গেলে, জবস ডিজনির সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডারে পরিনত হন ।

এ্যাপল পুনুরুদ্ধার

স্টিব জবস এ্যাপল ছাড়ার পর পিক্সার ছাড়াও   NeXT, Inc. নামে নতুন একটি হার্ডওয়ার ও সফটঅয়্যার কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । আমেরিকার সাধারণ বাজারে কোম্পানীটি তাদের নিজস্ব নতুন অপারেটিং সিস্টেম বিক্রি করতে গিয়ে কিছু সমস্যার মুখে পড়ে । পরবর্তীতে এ্যাপল Next, Inc কে ১৯৯৬ সালে ৪২৯ মিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছিল ।

১৯৯৭ সালে জবস সিইও হিসেবে এ্যাপলে ফিরে আসেন এবং যেভাবে তিনি ৭০ এর দশকে এ্যাপলকে সফলতার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই ১৯৯০ এর দশকে এ্যাপলের গৌরব পুনুরুদ্ধার করতে সক্ষম হন ।

একটি নতুন ম্যানেজমেন্ট টিমকে সাথে নিয়ে স্টক অপশনে পরিবর্তন ঘটিয়ে জবস এ্যাপলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন । জবসের জিনিয়াস বুদ্ধিমত্তার ফসল আইম্যাক এর মত অসাধারন সব পন্য । দারুন ডিজাইন এবং চমকপ্রদ ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এ্যাপল আরেকবার ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে সমর্থ হয় ।

স্টিভ জবস এর মোট সম্পদ

২০১১ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য মতে জবসের সম্পদের পরিমান ছিল প্রায় এক হাজার দুইশ কোটি মার্কিন ডলার । এই সম্পদের বেশিরভাগই এসেছিল ২০০৬ সালে ওয়াল্ট ডিজনির কাছে পিক্সার স্টুডিও বিক্রয়ের ডলার থেকে । ধারণা করা হয়, জবস যদি ১৯৮৫ সালে এ্যাপল ছাড়ার সময়ে তাঁর এ্যাপলের সব শেয়ার বিক্রী না করতেন, তবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমান দাঁড়াতো তিন হাজার ছয়শ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি ।

আরো পড়ুন

আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনী
স্টিভ জবসকে নিয়ে প্রকাশনা ও সিনেমা

স্টিভ জবস এর জীবন কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বেশ কয়েকটি সিনেমা তৈরী হয়েছে । যার মধ্যে ২০১৩ সালে নির্মিত ‘জবস’, এবং ২০১৫ সালে নির্মিত ও ড্যানি বোয়েল পরিচালিত ’স্টিভ জবস’ অন্যতম ।

ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ

২০০৩ সালে জবস এর নিউরোইনডক্রিন টিউমার ধরা পড়ে যা কিনা অগ্নাশয়ের একটি দুর্লভ কিন্তু অপারেশনযোগ্য ক্যান্সার । জানার সাথেসাথেই অপারেশন করার বদলে জবস তার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন এবং প্রাচ্যের চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করতে থাকেন । এভাবে তিনি অস্ত্রোপচার প্রকৃয়াকে নয় মাস দীর্ঘায়িত করেন ।

এ্যাপলের এক্সিকিউটিভরা ভয় করছিলেন যে জবসের অসুস্থতার খবর জানাজানি হলে শেয়ারহোল্ডাররা তাদের স্টক প্রত্যাহার করে নিতে পারেন । শেষ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডারদের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ভয়ে নয় বরং স্টিভ জবসের নিজের ইচ্ছায় তার অসুস্থতার খবর গোপন রাখা হয় । ২০০৪ সালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জবসের টিউমার অপসারণ করা হয় ।

২০০৯ এর শুরুর দিকে জবসের ওজনহ্রাস পেতে থাকে । কেউ কেউ ধারনা করতে থাকেন তাঁর পূর্বের স্বাস্থ্য সমস্যা আবার দেখা দিয়েছে । কিন্তু জবস বলেছিলেন তিনি আসলে হরমোনের অনুপাত জনিত সমস্যায় ভুগছেন – এর বেশিকিছু নয় ।

কিন্তু এর কিছুদিন পরই তিনি কাজ থেকে ছয় মাসের ছুটি নেন । একটি ইমেইল মেসেজে তিনি তাঁর সহকর্মীদের বলেছিলেন, তাঁর স্বাস্থ্য সমস্যা আসলে সাধারন পর্যায়ের নয় । তিনি এ্যাপলের তৎকালীন চিফ অপারেটিং অফিসার টিম কুককে তাঁর বদলে এ্যাপলের কার্যক্রম দেখভাল করার দায়িত্ব দেন ।

প্রায় এক বছর পাদপ্রদীপের বাইরে থাকার পর ২০০৯ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য একটি এ্যাপল ইভেন্টে বক্তৃতা করেন । তিনি ২০১০ সালের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই এ্যাপলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবে কাজ করে যান । এর মধ্যে আইপ্যাডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানও ছিল । ২০১১ সালের জানুয়ারিতে জবস ঘোষণা দেন, তিনি অসুস্থকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন । অগাস্ট মাসে তিনি এ্যাপলের সিইও পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং পাকাপাকি ভাবে টিম কুকের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করেন । এর এক মাস পরেই তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটে ।

স্টিভ জবসের মৃত্যু

স্টিভ জবস ২০১১ সালের ৫ই অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পালো আলটোতে ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন । তিনি প্রায় এক দশক যাবৎ অগ্নাশয়ের ক্যান্সারে ভুগছিলেন ।

Related posts

জীবনানন্দ দাশের সংক্ষিপ্ত জীবনী

jibondharaa

কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী

jibondharaa

পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের সংক্ষিপ্ত জীবনী

jibondharaa

Leave a Comment