Image default
স্বাস্থ্য

লিভার সিরোসিস কি । লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা ।

লিভার সিরোসিস লিভারের মারাত্মক একটি রোগ । লিভারের নানা রকম রোগের মধ্যে লিভার সিরোসিসকে চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি রোগ বলে বিবেচনা করা হয় । যখন লিভারের রোগ নানা পর্যায় অতিক্রম করার পর কোষগুলো এমনভাবে আক্রান্ত হয় যে, লিভার আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, সেই পর্যায়কে লিভার সিরোসিস বলা হয় । আজ আমরা লিভার সিরোসিস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো ।

লিভার সিরোসিস কি ?

লিভার সিরোসিস কি ? সে সম্পর্কে প্রশ্ন করলে অধিকাংশ মানুষই সঠিক উত্তর দিতে পারেনা । অথচ লিভার সিরোসিস থেকে বেঁচে থাকার জন্য এই রোগ সম্পর্কে জানা থাকা জরুরী । লিভার যখন রোগের নানা পর্যায় অতিক্রম করার পর লিভারের কোষগুলো এমনভাবে আক্রান্ত হয় যে, লিভার আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, লিভারের সেই পর্যায়কে লিভার সিরোসিস বল হয় । যখন এই রোগে আক্রান্ত হয় তখন লিভার  তার স্বাভাবিক কাজগুলো, যেমন- হজম ক্রিয়া, রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি করা , ওষুধ ও রাসায়নিকের শোষণ ক্রিয়া এবং খাদ্যের পুষ্টি উপাদানের ব্যবস্থাপনা করতে পারে না ।

লিভার সিরোসিস হলে লিভারে সূক্ষ্ণ সুতার জালের মতো ফাইব্রোসিসের বিস্তার ঘটে থাকে । লিভারে তখন ছোট ছোট দানার সৃষ্টি হয় । আস্তে আস্তে সেই দানার বিস্তার ঘটতে থাকে । ফাইব্রোসিস ছড়িয়ে পড়লে লিভার  সংকুচিত এবং শক্ত হয়ে পড়ে ।

লিভার সিরোসিস কেন হয় ।

হেপাটাইটিস বি, সি এবং ডি ভাইরাসের আক্রমণে লিভারে প্রদাহ তৈরি হয়। লিভারে প্রদাহ তৈরি করে বলেই একে হেপাটাইটিস বলা হয়ে থাকে , ফলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় । দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের আক্রমণে লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে এবং লিভারের কার্যক্রম ব্যাহত হয় ।এই সমস্যার চুড়ান্ত পর্যায় কে লিভার সিরোসিস বলা হয় । এছাড়া আরও কয়েকটি কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে ।

যেমন ফ্যাটি লিভার , এ রকম একটি বড় কারণ ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে চর্বি জমে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে লিভারে যদি মাত্রাতিরিক্ত চর্বি জমে থাকে তাহলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায় । এক সময় এ কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে । সারা পৃথিবীতে ফ্যাটি লিভার আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্খাজনক হারে বাড়ছে। আগামী ১৫ বছর পর লিভার সিরোসিসের বড় কারণ হতে পারে ফ্যাটি লিভার । আর ফ্যাটি লিভার আক্রান্তের অন্তত ২০ শতাংশ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হতে পারে ।

আরো পড়ুন

স্কিন ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, রক্তে কোলোস্টেরল ইত্যাদি কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে ।

অতিরিক্ত মদ্যপান করা , প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহন , ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়া গ্রহন, রাস্তাঘাটে বিক্রি হওয়া দূষিত পানীয় পান , খোলা শরবত বা ফলের মাধ্যমে লিভারে রোগ ছড়াতে পারে। যদিও লিভার সিরোসিস আর লিভারের ক্যানসার এক রোগ নয়। তবে লিভার সিরোসিস থেকে লিভারের ক্যানসার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে ।

লিভার সিরোসিসের লক্ষণ ।

চিকিৎসকরা বলেন, লিভার সিরোসিসের শুরুর দিকে তেমন কোন উপসর্গ থাকে না। অনেক সময় পেটের আলট্রাসাউন্ড অথবা পেটে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে । জন্ডিসও লিভার রোগের একটি লক্ষণ । রক্ত পরীক্ষা , বায়োপসি , সিটি স্ক্যান , এমআরআইএবং ফেব্রিস্কান  পরীক্ষা করার মাধ্যমেও লিভার সিরোসিস শনাক্ত হতে পারে ।

ডাক্তাররা বলে থাকেন, কিছু কিছু লক্ষণ দেখা গেলে লিভার সিরোসিসের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে । যেমন শারীরিক দুর্বলতা , খাবারে অরুচি বা অনিহা , পেটের পীড়া, ওজন কমে যাওয়া সেই সাথে অবসাদ । এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে ।  লিভার সিরোসিস হলে পেটে বা পায়ে অনেক সময় পানি আসতে পারে, চোখ ও প্রস্রাব হলুদ হতে পারে । সেই সাথে অনেকে চেতনা হারিয়ে ফেলেন ।

লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা ।

চিকিৎসকরা যকৃতের রোগে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকারের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন । বর্তমান বিশ্বে লিভার সিরোসিসের অনেক আধুনিক চিকিৎসা বের হয়েছে । বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি’র ক্ষেত্রে শিশুদের জন্মের পরপরই টিকা দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয় । প্রাপ্তবয়স্করাও এ টিকা ইচ্ছা করলেই নিতে পারেন ।

চিকিৎসকরা লিভারের রোগে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকারের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন । বর্তমান বিশ্বে লিভার সিরোসিসের অনেক আধুনিক চিকিৎসা বের হয়েছে । বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি’র ক্ষেত্রে শিশুদের জন্মের পরপরই টিকা দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয় । প্রাপ্তবয়স্করাও এ টিকা ইচ্ছা করলে নিতে পারেন ।

আরো পড়ুন

মারাত্মক সংক্রামক রোগ হেপাটাইটিস বি, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

হেপাটাইটিস সি থেকে বাঁচতে,  এক রেজারে একাধিক ব্যক্তির কোন ভাবেই শেভ না করা , রক্ত পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা দূষনমুক্ত হওয়া , যত্রতত্র যৌন সম্পর্ক পরিহার করা,  ইত্যাদির মাধ্যমে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয় । দূষিত পানি পান না করা , মদ্যপান এড়িয়ে চলা , খোলা ফলমূলের মতো যেসব কারণে যকৃতের রোগ হয় সেগুলো এড়িয়ে চলার যথা সম্ভব চেষ্টা করা ।

এছাড়াও অনেক কারণে লিভার সিরোসিস এর মতো রোগ হতে পারে । সতর্ক হলে অনেকাংশেই এ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয় । বিশেষ করে, যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় , নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা , ওজন নিয়ন্ত্রণ করা , কোলোস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা ,  প্রভৃতির মাধ্যমে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায় ।

Related posts

গর্ভপাতের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায় ।

jibondharaa

৭ এপ্রিল ।। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

jibondharaa

অ্যাজমা বা হাঁপানির প্রাকৃতিক চিকিৎসা এর লক্ষণ ও প্রকারভেদ

jibondharaa

Leave a Comment