Image default
স্বাস্থ্য

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায়

মহামারি করোনাসহ অন্যান্য ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে । প্রতিদিনই এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে । আমাদের দেশের পরিস্থিতিও এর ব্যতিক্রম নয় । বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই ।  শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি । বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায় :
১ । খাদ্যভ্যাস:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সর্বপ্রথম আপনার খাদ্যভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে । সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে ।  প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খান । ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবেন । এতে পুষ্টি সাথে ফাইবারও পাওয়া যাবে । পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন , প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাসফাস্টফুড, তেল-চর্বি ও মসলা জাতীয় খাবার যথাসম্ভব পরিহার করুন ।

২ । পর্যাপ্ত ঘুম :

অগোছালো জীবনযাত্রা স্বাস্থ্যের ওপর অনেক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে ।  ঘুম না হওয়া বা কম ঘুম সে ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয় । প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা করে ঘুমনোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই জরুরি । প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে । এ অভ্যাসটি ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে ।

৩ । মধু :

মধুতে রয়েছে জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান যেমন- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড । তাই যে কোন ফ্লু উপসর্গে মধু বেশ উপকারী । তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সাবধানে খেতে হবে । তবে বাজারে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ মধু প্রক্রিয়াজাত হয় গরম করে। মধু গরম করা হয় তার রং, গঠন উন্নত করতে । তবে গরম করার ফলে কিছু উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ব্যাকটেরিয়াও মরে যায় । তাই আসল মধু খেতে হলে স্থানীয় সংগ্রহকারীর কাছে যেতে হবে ।

rog-protirodh2.jpg
মধু ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখে
৪ । প্রোবায়োটিকস :

দই, চিজ ইত্যাদি খাবারে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । এসব খাবার এই সময় প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন ।

৫ । ভিটামিনস ও মিনারেল :

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল ।

ভিটামিন সি : ভিটামিন সি এর প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে টক জাতীয় ফল , যেমন- লেবু , কমলা , মাল্টা , আমড়া , জাম্বুরা ইত্যাদি । এ ছাড়াও বাজারে ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায় , যা ফ্লু উপসর্গে আপনি দিনে ১-২ বার চুষে খেতে পারেন । তবে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া ভিটামিন সি-এর কার্যকারিতা বেশি ।

আরো পড়ুন
ভিটামিন সি এর উৎস । শরীরে প্রতিদিন কতটুকু প্রয়োজন

ভিটামিন ডি : ভিটামিন ডি এর প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে সূর্যরশ্মি । যা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে (যেমন মুখমণ্ডল , হাত বা ঘাড় ইত্যাদি) আপনি কাজে লাগাতে পারেন । এ ছাড়াও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডিমের কুসুম , মাছের তেল , ওমেগা , গরুর কলিজা , চিজ এগুলো খেতে পারেন ।

আরো পড়ুন
ভিটামিন ডি ঘাটতিজনিত লক্ষণ : ভিটামিন ডি এর উৎস

জিংক : ফ্লু বা সর্দি-কাশি উপসর্গে জিংকের বেশ উপকারিতা রয়েছে । জিংক-সমৃদ্ধ খাবারগুলো হচ্ছে আদা , রসুন , ডাল , বিন্স , বাদাম , সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি । বাজারের লজেন্স আকারে জিংক সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন ২-৩ ঘণ্টা পর পর ।

rog-protirodh1.jpg
ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল

 

৬ । শরীরচর্চা :

শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শরীরচর্চা একটি অপরিহার্য বিষয় । প্রতিদিন নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করার অভ্যাস করা দরকার । বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন আমরা সবাই ঘরে অবস্থান করছি । প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এবং বাচ্চাদের অন্তর ১ ঘণ্টা শরীরচর্চা করা উচিত। ঘরে থেকে আপনি যা করতে পারেন হাঁটাহাটি , সাইক্লিং , ইয়োগা , ওয়েট শিফ্টিং , সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা ইত্যাদি আপনার শরীর চর্চার উপায় হতে পারে ।

৭ । মানসিক চাপমুক্ত থাকুন :

অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় । তাই মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন । টিভি , সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবরগুলো আপনাকে মানসিক চাপে ফেলছে , সেগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন । পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে ভালো সময় কাটান , গান শুনুন , বই পড়ুন , মুভি দেখুন বা নতুন কিছু শিখতে মনোনিবেশ করুনমেডিটেশন করতে পারেন , এটি খুব ভালো উপায় আপনার মনকে শান্ত রাখার ।

আরো পড়ুন
শুচিবাই বা ওসিডি কেন হয় ? এর লক্ষণ ও চিকিৎসা
৮ । ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন :

ধূমপান ও মদ্যপান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে এবং রোগব্যাধি সংক্রমণের আশঙ্কাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে তোলে । এগুলো স্বাস্থ্যকে খারাপ করে দেয় এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় । ধূমপান সরাসরি আপনার শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে । তাই এগুলো থেকে বিরত থাকুন ।

৯ । ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন :

শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বিকল্প নেই । খাবার পরিমিত খান ও শরীরিকভাবে সচল থাকুন । আঁশ জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে । যে কোন সবুজ শাক এবং নিয়মিত রুটি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন ।

আরো পড়ুন
ওজন কমানোর কিছু ঘরোয়া উপায়
১০ । পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা :

বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে নিজের ও আশপাশের পরিবেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি । নির্দিষ্ট সময় পর পর হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । ব্যবহার্য জিনিপত্র জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন । দরজার হাতল, সুইচ, লিফ্টের বাটন জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন ।

সুস্থ থাকার জন্য অবসাদ থেকে নিজেকে অবসাদ মুক্ত রাখা খুবই জরুরী । আত্মবিশ্বাসী , প্রেরণাদায়ক ও রসবোধসম্পন্ন মানুষ সুস্থ থাকে বেশি । এজন্য সদা হাস্যোজ্জ্বল থাকুন ।

Related posts

ফাইলেরিয়া কি? ফাইলেরিয়া এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

jibondharaa

গর্ভাবস্থায় কি খাবেন ।। কি খাবেন না

jibondharaa

শীতে পা ফাটা রোধের প্রাকৃতিক উপায়

jibondharaa

Leave a Comment