Image default
দেশ বিদেশ

জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় জামায়াত

বিএনপি – জামায়াতের জোটের ইতিহাস বেশ পুরানো। যদিও এই দুই দল সর্ব প্রথম ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটগত ভাবে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এই দুই দলের সখ্যতা আরও আগে থেকেই।  মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিএনিপ – জামায়াত বিভিন্ন ইস্যুতে একসাথে রাজপথে লড়াই করেছে।  তথাপি এই দুই দলের বর্তমান সম্পর্ক তেমন সুখকর নয়।

বিএনপি – জামায়াতের জোটের দুরত্ব শুরু কখন থেকে?

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি – জামায়াত চমৎকার সমঝোতার মাধ্যমে অংশ নেওয়াতে আওয়ামীগের শোচনিয় হার হয়েছিল।  কিন্তু ক্ষমতা গ্রহনের পর বিভন্ন জায়গাতে বিএনপি – জামায়াতের নেতা কর্মীরা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।  যেখানে বিএনপি সমর্থিত এমপি ছিলেন, সেখানে তেমন সমস্যা না থাকলেও জামায়াত সমর্থিত এমপি যেখানে ছিলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে সেখানে সমস্যা তৈরী হতে থাকে। এইযে সমস্যা শুরু হলো, সেটা বাড়তে বাড়তে এতটাই খারাপ পর্যায়ে গেল যে ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপি – জামায়াত জোট ভয়াবহ বিপর্যায়ের মুখে পড়লো।

এবিষয়ে একজন জামায়াত কর্মী অভিযোগ করেন, তার এলাকায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন ২০০৮ এর নির্বাচনে।  সেখানে বিএনপি কর্মীরা অনেকটা প্রকাশ্যে বলতে থাকেন, এখানে জোট হারলে কি হবে সারা দেশেই তো আমরা জিতছি।  তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি দিনে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও রাতে নৌকার পক্ষে কাজ করতেন।  যদিও প্রমাণিত হওয়ার পরে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়, কিন্তু জোট তো ততক্ষণে ক্ষমতা থেকে ছিটকে গেছে।

যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইবুনাল ইস্যু

আওয়ামী লীগ ২০০৮ এ সরকার গঠন করার পরে, কিছু দিনের মধ্যেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে।  প্রথমে ধর্ম অবমাননার হামলায় আটক করা হলেও, পরে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করে মামলা শুরু করা হয়। এই ট্রাইবুনাল নানান বিতর্কের মধ্য দিয়ে গেছে।  জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধ প্রমাণ হবেনা বুঝতে পেরে ট্রাইবুনালের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল।  স্কাইপ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে বিচারপতি নাসিম পদত্যাগ করে বিদায় নিতে বাধ্য হন। সবকিছুতে স্পষ্ট ছিল এটি একটি রাজনৈতিক ট্রাইবুনাল।  জামায়াত একক ভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও, সবসময় আশা করেছিল বিএনপি তাদের পক্ষে দাড়াবে।  কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে অনেকটা নিরব ভুমিকা পালন করে।  জামায়াত এককভাবে মিছিল – মিটিং, হরতাল – অবরোধ করেও নিজেদের নেতাদের বাঁচাতে ব্যার্থ হয়।  এ সময় জামায়াতের শত শত নেতা কর্মী পুলিশের গুলিতে মারা যায়।  বিএনপি এ সময় এতটাই নিরব ছিল যে,  তাদের নেতা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর জন্যেও তারা কিছু করেনি।

আরো পড়ুন

টিপ কান্ড ।। ইসলাম ফোবিয়া ছড়াচ্ছেন কিছু মানুষ ।
জোটের বিষয়ে  কি ভাবছে বিএনপি ?

বিএনপি – জামায়াতের জোট রাখা না রাখার বিষয়ে বিএনপির একটি অংশের মতামত স্পষ্ট। তারা মনে করে, জামায়াতের সাথে জোট থাকার কারণেই তারা আজ ক্ষমতা থেকে দুরে।  বিএনপির এই অংশ সভা – সমাবেশ, সেমিনার – টকশো,  যেখানে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই জামায়াতের বিরুদ্ধে বলছে। তারা স্পষ্টই বলছে, জামাযাতকে জোট থেকে বের করে দেওয়া উচিত। তবে বিএনপির হাই অথরিটির মনোভাব এক্ষেত্রে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।

কি ভাবছে জামায়াত?

জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের মহানগর পর্যায়ের একজন নেতাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, কার্যকরী কোন আন্দোলনে বিএনপিকে মাঠে পাওয়া যায়না। আন্দোলনের সময় আমরা জেল খাঁটবো, জীবন দিব, আর নির্বাচনের সময় কয়েকটি আসনের জন্য আমাদের নেতাদের বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে ভিক্ষুকের মতো বসে থাকতে হয়। তারপরও কাঙ্খিত সংখ্যক আসন পাওয়া যায় না।  বিএনপি কখনোই জোটের শরীকদের সাথে সুবিচার করতে পারেনি।   জোট থাকা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন,  এ বিষয়ে জামায়াত মোটেও কিছু ভাবছেনা।  এ বিষয়ে বিএনপিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  জোট ভাঙ্গার দায় কখনো জামায়াত নিজেদের কাঁধে  নেবেনা।  বিএনপি – জামায়াত জোট থাকা না থাকার বিষয়ে জামায়াত মোটেই চিন্তিত নয়।

বাংদেশের রাজনীতি এখন জোট নির্ভর । আর এক্ষেত্রে বিএনপি – জামায়াতের জোট এদেশের রাজনীতিতে খুবই গুরুত্ব বহন করে । তবে, এই দুই দলের জোটের ভবিষ্যত সামনের দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে । সে পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া বিকল্প নেই ।

Related posts

চতুর্থ ধাপের নির্বাচন : ভোট দিয়েছেন প্রবাসী ,মৃতরাও

jibondharaa

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যত অপরাধ ।

jibondharaa

এসএসসি ফল প্রকাশ : এগিয়ে আছে মেয়েরা

jibondharaa

Leave a Comment