Image default
স্বাস্থ্য

ফাইলেরিয়া কি? ফাইলেরিয়া এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফাইলেরিয়া কি?

ফাইলেরিয়া একটি কৃমি জাতীয় রোগ । যা ক্ষুদ্র পরজীবী জীবাণুর আক্রমণে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয় । এই পরজীবীর জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে শুধুমাত্র  মশার কামড়ে । যদিও কিউলেক্স মশার কামড়ে এই জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে তবে অ্যানোফেলিস ও এডিস মশার কামড়েও এই পরজীবীর জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে থাকে । এই ফাইলেরিয়া একটি মারাত্মক রোগ । যদিও ফাইলেরিয়া একটি কৃমিজাতীয় রোগ কিন্তু এই রোগের পরজীবী আমাদের অন্ত্রে বাস করে না । ফাইলেরিয়া জীবাণু রোগীর লসিকানালীতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং লসিকানালীতে প্রদাহের সৃষ্টি করে । পরবর্তী সময়ে লসিকানালী ফুলে যায় ও বন্ধ হয়ে লসিকা প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায় । ফলে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায় । মানবদেহের বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তাকে লসিকা বলা হয় । বাংলাদেশের উত্তরাংশে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় । ফাইলেরিয়াকে স্থানিয় ভাষায় গোদ রোগ বলা হয় ।

ফাইলেরিয়া এর লক্ষণ

১. শরীরের বিভিন্ন অংশ  ফুলে যাওয়া ।

২.  চামড়া ও এর নিচের টিস্যু মোটা হয়ে যাওয়া

এগুলোই প্রধান লক্ষণ যা মশার কামড় দ্বারা সংক্রমিত রোগ হিসেবে প্রথম চিহ্নিত করা হয়েছিল । এই ফুলে যাওয়াকে এলিফেনটায়াসিস বলা হয়ে থাকে । যখন পরজীবী কৃমিগুলো মানুষের লসিকা তন্ত্রে বাসা বাঁধে তখনই এলিফেনটায়াসিস হয়।

যদিও ফুলে যাওয়াটা পায়েই বেশি হয় । তবে ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফাইলেরিয়া – কৃমি ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে বাসা বাঁধে । Wuchereria bancrofti নামের যে ফাইলেরিয়া আছে, এই প্রজাতির ক্ষেত্রে প্রধানতঃ পা, হাত, নারী-যৌনাঙ্গ, স্তন, অন্ডকোষ ইত্যাদি ফুলে ওঠে  । Brugia timori নামক প্রজাতির ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ আক্রান্ত হয়না বললেই চলে ।

আরো পড়ুন

জরায়ু মুখের ক্যান্সার কেন হয় ? এর লক্ষণ , প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা ।
ফাইলেরিয়া রোগ নির্নয়

সাধারণতো রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ফাইলেরিয়া রোগ নির্নয় করা হয় । তাছাড়া সরাসরি অথবা লিম্ফ নোড কালচার করেও এর জীবাণু নিশ্চিত করা যায় ।

ফাইলেরিয়া রোগ এর চিকিৎসা

ফাইলেরিয়া এর  চূড়ান্ত উপসর্গের চিকিৎসা বেশিরভাগ সময়ে করা হয় অ্যান্টি-হিস্টামাইন, এবং যন্ত্রণা নিরোধক ওষুধের সাহায্যে । তবে এই ওষুধের সাহায্যে শুধুমাত্র উপসর্গ দূর করা যায়, ফাইলেরিয়া চুড়ান্তভাবে নির্মুল হয়না ।  রক্তে ফাইলেরিয়া পরজীবীদের সংক্রমণ থেকে বাঁচার সর্বোত্তম বা চুড়ান্ত উপায় হচ্ছে পরজীবী নিবারক বা অ্যান্টি প্যারাসাইটিক ওষুধ প্রয়োগ করা । এই ওষুধ পরজীবীগুলি যখন লার্ভা অবস্থায় থাকে তখনই তাদের মেরে ফেলতে পারে । সেই সাথে প্রাপ্তবয়স্ক পরজীবীদের আর বাড়তে দেয় না, এমনকি তাদের মেরে ফেলে । তবে,  যদিও এই ওষুধগুলি কার্যকরী, কিন্তু এই ওষধের কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে । যা প্রদাহ নিরোধক বা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ওষুধের সাহায্যে উপশম করা সম্ভব হয় । এই সব ওষুধ গ্রহণের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, কারণ লিম্ফ নোডে বা রক্তনালীতে একগুচ্ছ মৃত কীট জমা হলে শরীরে অ্যালার্জি দেখা যেতে পারে । সেই সাথে শরীরে ফোড়া হতে পারে । শরীরে এলিফেন্টায়াসিস একবার হয়ে গেলে এর কোনো চিকিৎসা নেই । এলিফেন্টায়াসিস হলে অনেক সময় অঙ্গ কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় । তবে অন্ডকোষ আক্রান্ত হলে সর্জারিতে ভাল ফল পাওয়া যায় ।

আরো পড়ুন

ক্যান্সার প্রতিরোধে যে সকল খাবার পরিহার করা জরুরী
সার্জারি বা অস্ত্রপচার

ফাইলেরিয়া যখন জটিল অবস্থায় পৌছে যায় । জটিলতা সৃষ্টি হয়ে যে সব রোগীর অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক ফ্লুইড বা তরল জমে যায় । যদি লিম্ফ নোডে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যায় । লসিকানালীতে লার্ভা অবস্থায় কীট রয়ে যায়, তাঁদের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে ।

ফাইলেরিয়া প্রতিরোধ

মশার বিস্তার ধ্বংসের মাধ্যমে ফাইলেরিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব । ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন । বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন । সরকারিভাবে মশা মারার ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে । সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন । শরীরে মশার স্প্রে ব্যবহার করা বা এক ধরনের মলম আছে, যেগুলো শরীরে মাখলে মশা কামড়ায় না । এগুলো ব্যবহার করুন । মোটকথা, মশা নিধন করা সম্ভব হলে বা মশার কামড় থেকে মুক্ত থাকতে পারলেই ফাইলেরিয়া প্রতিরোধ সম্ভব ।

 রোগীর জীবনশৈলী ব্যবস্থাপনা

সংক্রমণের সময় ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা একান্ত জরুরী

১. নিয়মিত হাত এবং পায়ের পাতা পরিষ্কার রাখা ।

২. তারপর ভালভাবে করে মুছে,ত্বক নরম রাখার ক্রিম ব্যাবহার ।

৩. নিয়মিত নখ কাটা এবং পরিষ্কার রাখা ।

৪. আঘাত এবং সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা ।

৫. শরীরের কোথাও কোনও ক্ষত হয়েছে কিনা তা প্রতিদিন লক্ষ রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য অ্যান্টি ফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করা ।

৬. প্রতিদিন শরীরের প্রতিটি অঙ্গ –  প্রতঙ্গ পরিষ্কার রাখা যাতে ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ না হয় ।

৭. যথাসম্ভব পা উঁচু করে রাখা অথবা প্রতিদিন একটু একটু  হাঁটুন যাতে না ফুলতে পারে।

৮. প্রচুর বিশ্রাম নিন ।

Related posts

প্রতিদিন পুদিনা পাতার চা পান করুন , দূর হবে ৮টি মারাত্মক সমস্যা

jibondharaa

শীতে পা ফাটা রোধের প্রাকৃতিক উপায়

jibondharaa

রক্তস্বল্পতার লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার

jibondharaa

Leave a Comment