Image default
স্বাস্থ্য

থাইরয়েড ক্যান্সার কত প্রকার । এর লক্ষণ ও চিকিৎসা ।

থাইরয়েড ক্যান্সার কি এটা বুঝতে সুবিধা হবে যদি আমরা বুঝি ক্যান্সার আসলে কি । শরীরের অস্বাভাবিক কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যাওয়াই হলো ক্যান্সার । তেমনিভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিতে অস্বাভাবিক কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ক্যান্সারের সৃষ্টি করে । এটি প্রথমে টিউমার রুপে প্রকাশ পায় এবং পরবর্তিতে  ক্যান্সারে রুপ নেয় ।থাইরয়েড গ্রন্থি হল গলার নিচের দিকে অবস্থিত একটি প্রজাপতি আকারের গ্রন্থি । থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ হলো শরীরের বিপাকিয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করা । এছাড়াও থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন আমাদের শরীরের বৃদ্ধি , রক্তচাপ , হৃদস্পন্দন , এবং শরীরের স্বাভাবিক উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ করে ।

থাইরয়েড ক্যান্সার চার প্রকার

১ । পেপিলারি থাইরয়েড ক্যান্সার :

থাইরয়েড ক্যান্সার রোগিদের মধ্যে পেপিলারি থাইরয়েড ক্যান্সার রোগির সংখ্যাই বেশি দেখা যায় । এই ক্যান্সার ধিরে ধিরে বৃদ্ধি পায় , কিন্তু অচিরেই গলার লিম্ফ নোড বা লসিকাগ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে । এটি ৩০ বছরের বেশি বয়সিদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত করে ।

২  । ফলিকুলার থাইরয়েড ক্যান্সার :
kansar-2.jpg
থাইরয়েড ক্যান্সার, ছবি – সংগ্রহীত

এই ক্যান্সারটি থাইরয়েড ফলিকুলার কোষ থেকে উদ্ভূত হয় । এটি লিম্ফ নোড বা রক্ত জালিকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে । ৫০ বছরের বেশি বয়সের মানুষকে বেশি আক্রান্ত করে ।

৩ । মেডুলারি থাইরয়েড ক্যান্সার :

মেডুলারি থাইরয়েড ক্যান্সার সমস্ত থাইরয়েড কোষকে আক্রান্ত করে । এই ক্যান্সার সাধারণত প্রাথমিক স্তরে স্তরেই ধরা পড়ে । থাইরয়েড ক্যান্সারের প্রায় চার ভাগ মেডুলারি ক্যান্সার হয়ে থাকে ।

৪ । অ্যানাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যান্সার :

এটি থাইরয়েড ক্যান্সারের সবচেয়ে গুরুতর ধরণ । কারণ, এটি শরীরের অন্যান্য অংশে খুব দ্রুত ছড়ায় । এটি খুব বিরল এবং চিকিৎসাও বেশ জটিল ।

আরো পড়ুন

ক্যান্সারের ১০ টি সতর্কীকরণ লক্ষণ

থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ

  • গলায় ফোলা বা মাংসপিন্ড সৃষ্টি হওয়া ।
  • গলায় ও ঘাড়ের সামনের অংশে ব্যথা ।
  • ঢোক গিলতে ব্যথা অনুভব করা ।
  • গলার স্বর বসে যাওয়া
  • ঘনঘন সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হওয়া ।
থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা

বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যান্সার চিকিৎসার মাধ্যমে নিরময় সম্ভব হয় । তবে এটি নির্ভর করে ক্যান্সার কোন স্টেজ এবং অবস্থায় আছে তার উপর । ক্যান্সারের ধরন ও রোগির অবস্থার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করে রোগির চিকিৎসা করা হবে । নিচে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো ।

 

১ । সার্জারি :

অধিকাংশ থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগির সার্জারি প্রয়োজন হয় । এতে আক্রান্ত থাইরয়েডের কিছু অংশ বা পুরাটাই অপারেশনের মাধ্যমে ফেলে দেওয়া হয় । এটা নির্ভর করে ক্যান্সারের অবস্থান , আকার এবং কতখানি ছড়িয়েছে তার উপর ।

২ । রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন :

এই চিকিৎসা সাধারণত অপারেশনের পরে করা হয় । যার মুল উদ্দেশ্য অপারেশনের পরও শরীরে থেকে যাওয়া অবশিষ্ট থাইরয়েড টিস্যু এবং ক্যান্সার কোষগুলো ধ্বংস করা ।  রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন ট্যাবলেট এবং তরল ওষধ আকারে দেওয়া হয় ।

৩ । কেমোথেরাপি :

থাইরয়েড ক্যান্সার যদি শরীরের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে তখন কেমোথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে । শরীরের অভ্যন্তরে দ্রুত বাড়তে থাকা ক্যান্সার সেলগুলির বৃদ্ধিরোধ এবং ধ্বংস করতে এই থেরাপি প্রয়োগ করা হয় । যদিও কেমোথেরাপির বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে তবুও শরীরে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার চিকিৎসায় এটিই সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি ।

৪ । রেডিয়েশন থেরাপি :

শরীরের নিদৃষ্ট স্থানের ক্যানসার বাহি টিউমার বা টিউমারগুলির উপর উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি প্রয়োগ করাকে রেডিয়েশন থেরাপি বলে । এই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি ক্যান্সার সেলের ডি এন এ ধ্বংস করে ক্যান্সার নির্মুল করে । ফলে ক্যান্সার সেলের ডি এন এ গুলি আর বাড়তে পারেনা এবং ক্রমশঃ ধ্বংস হয়ে যায় ।

৫ । থাইরয়েড হরমোন থেরাপি :

থাইরয়েড গ্রন্থির অপারেশনের পর শরীরে নিজ থেকে থাইরয়েড রিলেটেড হরমোন উৎপন্ন বন্ধ হয়ে যায় । ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আজীবন থাইরয়েডের ওষধ খেয়ে যেতে হয় । এই ওষধ থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি পূরনে সহায়ক হয় ।

থাইরয়েড ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকার জন্য সচেতনতা প্রয়োজন । নিয়মিত বিরতিতে চেকআপ ও ডাক্তারের ফলোআপে থাকলে থাইরয়েড ক্যান্সারের হাত থেকে সহজেই মুক্ত থাকা যায় ।

আরো পড়ুন

কিডনি রুগি কি খাবেন ।। কি খাবেন না

 

Related posts

পুরুষের যৌন সমস্যার কারণ ও প্রতিকার

jibondharaa

এন্ডোস্কোপি কি ? এন্ডোস্কোপির নিয়ম

jibondharaa

গাউট বা গেঁটে বাতের কারণ , লক্ষণ ও চিকিৎসা

jibondharaa

Leave a Comment