Image default
পুষ্টি

ড্রাগন ফলের উপকারীতা : ড্রাগন ফল কেন খাবেন

ড্রাগন ফল এক ধরনের ক্যাকটাস প্রজাতির বিদেশি ফল । রেড পিটায়া, স্ট্রবেরি পিয়ার, কনডেরেলা প্ল্যান্ট ইত্যাদি নামেও পরিচিত এটি । এই ফলের উৎস মেক্সিকো হলেও এখন আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলায় ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে । এটি অত্যন্ত স্বাস্থউপকারী একটি ফল । একটি ড্রাগন ফলে ৬০ ক্যালরি এবং প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৯ থাকে । এই ফলে বিটা ক্যারোটিন ও লাইকোপিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে । বিটা ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে ত্বক, চোখ ও ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি করে ।

ড্রাগন ফলের উপকারীতাসমূহ জেনে নেয়া যাক :

১ । হার্টের জন্য উপকারী :
dragon-4.jpg
ড্রাগন বাগান, ছবি – সংগ্রহীত

ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইবার রয়েছে । যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবারযুক্ত খাবার বেশি খেলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমে । ড্রাগন ফলের বীজে হার্টের জন্য উপকারী ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৯ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে।ফলে নিয়মিত এ ফলটি খেলে হার্ট ভালো থাকে ও হার্টের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে ।

২ । কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে :

কোষ্ঠকাঠিন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অস্বস্থিকর একটি সমস্যা । ড্রাগন ফলের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিকারক হিসেবে কাজ করে। এটা অন্ত্রের বর্জ্য দূরীকরণে সহায়তা করে । যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তারা এই ফল খেলে উপকার পেতে পারেন ।

৩ । হাড় ভালো রাখে :

ড্রাগন ফলে প্রচুর প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে । বিশেষ করে হাড়ের জন্য দরকারি পটাশিয়াম আর ক্যালসিয়ামের দারুণ উৎস এটি । অধিকাংশ ফলের চেয়ে ড্রাগন ফলে ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে । এটা হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে ।

৪ । ক্যান্সার প্রতিরোধ করে :
dragon-1.jpg
রসালো ড্রাগন ফল , ছবি – সংগ্রহীত

ড্রাগন ফল ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে । এই ফলে ক্যারোটিন নামক উপাদান রয়েছে, যা শরীরে থাকা টিউমারকে ধ্বংস করে । ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইটোনিয়ট্রিয়েন্ট থাকে, যা শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জোগাতে পারে । শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলসের বিরুদ্ধে লড়তে এটি দারুণ কার্যকর। তাই ক্যানসার বা ত্বকের ক্ষতি ঠেকাতে ড্রাগন ফল খেতে পারেন ।

৫ । রক্ত চলাচল ঠিক রাখে :
dragon-3.jpg
ড্রাগনের ফুল, ছবি – সংগ্রহীত

১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে ১.৯ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে, যা দৈনিক সুপারিশকৃত মাত্রার ১০ শতাংশেরও বেশি । হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন প্রয়োজন, যা শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছাতে লোহিত রক্তকণিকাকে সাহায্য করে। ড্রাগন ফলে প্রচুর আয়রন থাকার ফলে দেহে রক্ত চলাচল ঠিক রাখে ।  এই ফল আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার অন্যান্য উপসর্গও প্রশমিত করতে পারে, যেমন – অত্যধিক ক্লান্তি, ত্বকের বিবর্ণতা, মনোনিবেশে সমস্যা, মাথাব্যথা ও হাত-পায়ে ঠান্ডা অনুভূতি ।

৬ । ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে :

ভিটামিন সি আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে । আর ড্রাগন ফল ভিটামিন সি এর খুব ভালো উৎস । এক কাপ ড্রাগন ফলে দৈনিক চাহিদার ৯% ভিটামিন সি পাওয়া যায় । ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইটোনিয়ট্রিয়েন্ট থাকে, যা শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জোগাতে পারে । শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলসের বিরুদ্ধে লড়তে এটি দারুণ কার্যকর ।

নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে চুলপড়া কমতে পারে । কারন আয়রনের অভাবজনিত কারনে চুলপড়া সমস্যা হয়ে থাকে ।
আরো পড়ুন

নিয়মিত আপেল খাওয়ার ১০টি উপকারীতা

গাজরের পুষ্টিগুণ : উপকারিতা ও অপকারিতা

Related posts

গাজরের পুষ্টিগুণ : উপকারিতা ও অপকারিতা

jibondharaa

পেয়ারার পুষ্টিগুণ :পেয়ারা কেন খাবেন

jibondharaa

ডাবের পানির উপকারীতা : ডাবের পানি খাওয়া কেন প্রয়োজন

jibondharaa

Leave a Comment