Image default
জীবনী

জর্জ বার্নার্ড  শ এর জীবনী

জর্জ বার্নার্ড  শ তার সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং শৈল্পিক মনন থেকে সত্যিকারের আনন্দ পাওয়ার জন্য সাহিত্য চর্চা করতেন । তিনি খ্যাতি এবং গৌরবের স্বপ্ন হয়তো দেখেননি । তার ভাল লাগার জায়গা থেকে কেবল তাঁর প্রিয় কাজটি করে গেছেন যা তাকে সাফল্যের চুড়ায় পৌছে দেয় । তিনি শুধু সাহিত্যিক ছিলেন তা নয় বরং জর্জ বার্নার্ড শ ছিলেন একজন আইরিশ নাট্যকার, সমালোচক, বিসংবাদী এবং রাজনৈতিক কর্মী । আজকের নিবন্ধে তার জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

এক নজরে
নামজর্জ বার্নার্ড শ
জন্ম২৬ জুলাই ১৮৫৬, ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড
পিতাজর্জ কার শ
মাতালাসিন্ডা এলিজাবেথ
পেশানাট্যকার, সমালোচক, বিসংবাদী, রাজনৈতিক কর্মী
জাতীয়তাব্রিটিশ, আইরিশ (দ্বৈত জাতীয়তা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানওয়েসলি কলেজ, ডাবলিন
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারসাহিত্যে নোবেল পুরস্কার  ১৯২৫

চিত্রনাট্য বিভাগে একাডেমি পুরস্কার

১৯৩৮- পিগম্যালিয়ন

 

মৃত্যু২ নভেম্বর ১৯৫০

 

জর্জ বার্নার্ড শ এর জন্ম

সাহিত্যিক , দার্শনিক , নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ ১৮৫৬ সালের ২৬ শে জুলাই আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন । যিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের উপাধি লাভ করেন । তার বাবার নাম ছিল জর্জ কার শ এবং মায়ের নাম ছিল লুসিন্ডা এলিজাবেথ । বার্নার্ড শ এর মা – বাবা দুজনেই ছিলেন আইরিশ ।

জর্জ বার্নার্ড শ এর বাল্যকাল

পারিবারিক শিক্ষা থেকেই বার্নার্ড শ শৈশব থেকে স্বাধীনচেতা মনোভাব নিয়ে বেড়ে ওঠেন । বার্নার্ড শ’র মা ভালো পিয়ানো বাজাতে পারতেন । শ ’ খুব সঙ্গীত পিপাসু ছিলেন । তিনি তার মায়ের কাছ থেকে পিয়ানো বাঁজাতে শেখেন ।  জর্জ তার মায়ের কাছ থেকেই পরবর্তীকালে বিখ্যাত মনীষী হবার প্রেরণা লাভ করেন ।

জর্জ বার্নার্ড শ এর শিক্ষাজীবন

জর্জ বার্নাড’শ স্কুল কলেজের বাঁধাধরা পড়াশুনা মোটেই পছন্দ করতেন না । এমন কি তিনি কোন সার্টিফিকেটও অর্জন করেননি । বার্নার্ড শ ঘরে বসেই নানা ধরনের বই পড়তেন । গান শুনতেন আর পিয়ানো বাঁজাতেন ।

আরো পড়ুন

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী
জর্জ বার্নার্ড শ এর কর্মজীবন

একসময় বাবার ব্যবসায়িক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে শ’র মনে কর্তব্যবোধ জেগে উঠে । পনেরো বছর বয়সে তিনি চাকুরির খোজে বেরিয়ে পড়েন । অনেক চেষ্টার পর, একটা জমির দালিল -এর অফিসে চাকুরি পেলেন তিনি । পাঁচ বছর তিনি সেখানে চাকুরি করেন । প্রথম থেকেই বার্নার্ড শ’র মনে বড় লেখক হবার বাসনা ছিলো । জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি বিভিন্ন পাঠাগারে গিয়ে পড়াশুনা করতেন । লেখালিখিও শুরু করলেন একদিন । পাবলিক ওপিনিয়ন নামক একটি পত্রিকায় তার প্রথম প্রবন্ধ ‘ নিরীশ্বরবাদ ‘ প্রকাশিত হয় । তখন তাঁর বয়স মাত্র সাড়ে পনেরো বছর ।

জর্জ বার্নার্ড শ এর সাহিত্য জীবন

মাঝখানের দু একটা চাকুরি করা ছাড়া লিখে তিনি প্রথম নয় বছর তেমন কোন অর্থ উপার্জন করতে পারেন নি । বিভিন্ন পত্র – পত্রিকায় নিবন্ধ ও সমালাচনা লিখে কিছু উপার্জন হতো । ইতিমধ্যে তিনি পাঁচটি উপন্যাস লেখা শেষ করেছেন ।

উপন্যাস পাঁচটি তিনি বেশকয়েকজন প্রকাশককে দেখিয়েছিলেন , কিন্তু তারা কেউ তাঁর উপন্যাস ছাপাতে রাজী হননি । ইতিমধ্যে তিনি লন্ডনের টু – ডে নামক পত্রিকায় তার একটি উপন্যাস ‘ ক্যাসল বায়রনস প্রফেশন ‘ ধারাবাহিকভাবে ছাপানোর সুযোগ পেলেন । উপন্যাসটি খুবই জনপ্রিয়তা পায় । এরপর আমেরিকার কোন্ এক প্রকাশক তার উপন্যাসটি পুস্তক আকারে প্রকাশ করলো । এই পুস্তক থেকে তিনি আশি পাউন্ডের একটি চেক পেলেন বইয়ের রয়্যালিটি বাবদ । চেকটি পেয়ে তার আত্মবিশ্বাস অনেক অনেক গুন বেড়ে গেল । কলম তার হাতে অস্ত্র হয়ে উঠতে লাগলো । বার্নার্ড শ‘ র্তার সাহিত্য সাধনার মাঝে পরিবর্তন করে উপন্যাসের পরিবর্তে নাটক লিখতে লাগলেন ।

জর্জ বার্নার্ড শ এর প্রথম নাটক

তার প্রথম সাড়া জাগানো নাটক ‘ উইডোয়ারস হাউজেস ‘ । এরপর বার্নার্ড শকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি । তিনি এগিয়ে চললেন ঝড়ের গতিতে, তার দুরন্ত ব্যক্তিত্বকে সঙ্গী করে । একাধারে নাট্যকার , দার্শনিক , কট্টর সমালেোচক , বক্তা জর্জ বার্নার্ড ’ শ খ্যাতির চূড়ায় আরোহণ করতে লাগলেন অতি দ্রুতগতিতে । মাত্র ৩৭ বছরে তিনি লিখে ফেলেছিলেন পঞ্চাশটির মতো নাটক ।

আরো পড়ুন

মুনীর চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
জর্জ বার্নার্ড শ এর নোবেল পুরস্কার

১৯২৩ সালে প্রকাশিত নাটক ‘ সেন্ট জোয়ান ’ – এর জন্য ১৯২৫ সালে তিনি সাহিত্য ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার পান । কিন্তু, প্রথমে বার্নার্ডশ সেই পুরস্কার প্রত্যাখান করেন । পরে সুইডিস একাডেমির অনুরোধে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন । তবে পুরস্কারের সাত হাজার পাউন্ডের চেকটি তিনি সঙ্গে সঙ্গে একটি দলিল করে ইঙ্গ – সুইডিস সাহিত্যিক সমিতির কাছে তুলে দেন । এমন দৃষ্টান্ত নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে ছিলো এই প্রথম ।

জর্জ বার্নার্ড শ‘কে লেখকের স্বীকৃতি

১৯২৫ সালে বার্নার্ড’শকে সমগ্র ইউরোপের সাহিত্যিক সমাজের পক্ষ থেকে গ্রান্ড ওল্ডম্যান অব ইউরোপিয়ান লেটার্স ‘ এই নতুন  পরিচয়ে চিহ্নিত করা হয় । এভাবে তিনি সমগ্র ইউরোপে তৎকালীন জীবিত লেখকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়ক বলে স্বীকৃতি পান । বিশ্বের লেখকদের মধ্যে একমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়া জীবিত অবস্থায় লিখে সে সময় এতো অর্থ উপার্জন আর কেউ করতে পারেননি ।

জর্জ বার্নার্ড শ এর মৃত্যু

মনীষী বার্নার্ড শ ১৯৫০ সালের ২ রা নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন । মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর ।

Related posts

বেগম রোকেয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী

jibondharaa

শহীদুল্লা কায়সারের সংক্ষিপ্ত জীবনী

jibondharaa

কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী

jibondharaa

Leave a Comment