Image default
স্বাস্থ্য

জরায়ু মুখের ক্যান্সার কেন হয় ? এর লক্ষণ , প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা ।

জরায়ু মুখের ক্যান্সারকে ‘নীরবঘাতক’ বলা হয় ।  কারণ এই রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ নারীই এর লক্ষণ বুঝতে পারেন না । আবার লক্ষণ দেখা দিলেও অনেক সময় গুরুত্ব দেন না । নতুনভাবে প্রতি বছর ১২ হাজার নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী , বিশ্বে প্রতি বছর ৫ লাখ ৭০ হাজার নারী এই জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন । এবং প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার নারী এর ফলে মারা যান । আর এ মৃত্যুর ৯০ শতাংশ ঘটছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে । বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে নারীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ জরায়ু মুখে ক্যান্সার । যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তাদের মধ্যে শতকরা ৩০ জনই হবেন জরায়ু মুখের ক্যান্সার ।  সচেতনতার অভাব ও লজ্জার কারণে নারীরা এ রোগের পরীক্ষা করাতে চান না । এ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে , এমনকি দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে গেলেও তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না । তাই রোগ সম্পর্কে সচেতন না হলে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন ।

জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারন :
  • হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) প্রধানত জরায়ু মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী । যৌনবাহিত এই রোগটি একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় । প্রাথমিক অবস্থায় যখন এ ভাইরাসটির আক্রমণ ঘটে তখনি কিন্তু ক্যান্সার হয় না । এ ক্যান্সার হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে ।
  • যেসকল মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হয় , অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ২০ বছরের কম বয়সী নারী । এ বয়সে বিয়ে বা যৌন সংযোগ ঘটলে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায় ।
  • যেসব নারীরা ঘন ঘন বাচ্চা প্রসব করেন তারাও এ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন ।
  • যেসকল নারীদের অধিক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রয়েছে তারা জরায়ু মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন ।
  • যেসব মেয়েদের স্বামীরা বহুগামী তাদেরও এই ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে ।
jrau-cancer.jpg
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ :
  • দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত পানিমিশ্রিত স্রাব হতে পারে । অনেকের আবার চালধোয়া পানির মতো স্রাব হতে পারে ।
  • তলপেটে ব্যথা হতে পারে ।
  • পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাবার পরে পুনরায় রক্ত , পানি বের হওয়া ।
  • অভ্যস্ত থাকার পরেও সহবাসের সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া ।
  • সহবাসের পর রক্তক্ষরণ হওয়া ।
  • যৌনাঙ্গের চারপাশে চাপ বোধ হওয়া এবং ঘন ঘন মূত্রত্যাগ করা ।
  • মাসিকের পথে অনিয়মিত রক্তক্ষরণ ।
  • হঠাৎ ক্ষুধা কমে যাওয়া । সবসময় বমি বমি ভাব কিংবা বার বার বমি হওয়া ।
আরো পড়ুন:
স্কিন ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও প্রতিকার :
  • যদি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ ধরা পড়ে এবং পরিপূর্ণ চিকিৎসা ওফলোআপে রাখা যায় তবে জরায়ু মুখের ক্যান্সারে প্রতিরোধ করা সম্পূর্ণ সম্ভব । সেক্ষেত্রে জরায়ু ফেলে না দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় । এমনকি চিকিৎসার পরে সন্তান ধারণ ও সম্ভব ।
  • উন্নত দেশগুলোতে এখন আর জরায়ু মুখের ক্যান্সারে রোঘী মারা যায় না । বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও এর প্রতিরোধক টিকা পাওয়া যাচ্ছে ।
  • মূলত ভয় , সামাজিক কুসংস্কার , পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাব , লজ্জা ইত্যাদি কারনে নারীরা সহজে এ রোগে সঠিক চিকিৎসা পান না । যখন চিকিৎসা নিতে যান তখন রোগ জটিল হয়ে পড়ে ।
  • জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে হলে উপরিউক্ত কোনো লক্ষণ যদি দেখা যায় তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে । এ ক্ষেত্রে যদি কোনো বাধা আসে তবে তা অতিক্রম করতে হবে । চিকিৎসক যে পরীক্ষা দিবেন তা যথাসম্ভব দ্রুত করাতে হবে ।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে । এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে ।
আরো পড়ুন:
ক্যান্সার প্রতিরোধে যে সকল খাবার পরিহার করা জরুরী
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা :

এ রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যান্সার কোন অবস্থায় আছে তার উপর । যেটাকে বলা হয় ক্যান্সার স্টেজিং । যদি স্টেজ এক এবং দুই –এর প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তবে সার্জারী করা যেতে পারে । স্টেজ যদি তিন বা চার হয় এবং ক্যান্সার আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে তখন রেডিওথেরাপি দিতে হয় । আর কেমোথেরাপি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বুঝে-শুনে দিতে পারেন । তবে অবশ্যই নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ জরুরী ।  যদি কেউ আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে আসেন তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা নিলে শতাভাগ মুক্তি লাভ করা সম্ভব ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো যদি আপনি আপনার জরায়ুর মুখ আগে থেকেই পরীক্ষা করান এবং জেনে নেন ক্যান্সারের কোন লক্ষণ আছে কিনা , যদি থাকে তাহলে সে অনূযায়ী চিকিৎসা নিন । তাহলে এই ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন ।

Related posts

মারাত্মক সংক্রামক রোগ হেপাটাইটিস বি, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

jibondharaa

কিডনি সুস্থ্য রাখার সহজ কিছু উপায়

jibondharaa

ইকোকার্ডিওগ্রাফি কি : কেন করা হয়

jibondharaa

Leave a Comment