Image default
স্বাস্থ্য

চিরতার ঔষধী গুণ ।। চিরতা কেন খাবেন

চিরতা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি । চিরতা বর্ষজীবি উদ্ভিদ । চিরতা একটি ভেষজ উদ্ভিদ, যা বাংলাদেশ সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর জন্মে । গাছটির গড় উচ্চতা প্রায় দেড় মিটার । গাছের পাতা কম-বেশি ১০ সে.মি. দীর্ঘ । সুপ্রাচীনকাল থেকে চিরতা ভারতবর্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । হিমালয়ের পাদভূমিতে তার উৎপত্তি । চিরতার আয়ুর্বেদিক নাম কিরাততিক্তা ।

ঔষধী গুন

বদহজম থেকে রক্ষা করে

হজমের সমস্যা থাকলে খেতে পারেন চিরতার পানি । এটি বদহজম, অ্যাসিডিটি থেকে রক্ষা করে । এছাড়াও যদি কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা থাকে তাহলে চিরতার পানি খুব উপকারি। এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য রোজ চিরতার পানি খেলে উপকার পাবেন ।

জ্বর নিরাময় করে
Untitled-1-copy8ae5b1300598b7c0.jpg
ছবি : চিরতা পাতা – সংগ্রহীত

ঋতু পরিবর্তনে অনেকের জ্বর হয়, সেই সাথে সর্দি-কাশি বেড়ে যায়। এ জ্বরে অনেকের হাত-পা চিবোয় বা কামড়ায়। এ অবস্থা হলে ৫-১০ গ্রাম চিরতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। পরে তা ছেঁকে সকালে অর্ধেক ও বিকালে অর্ধেক খেতে হবে। কয়েকদিন খেলে জ্বরের এ ভাবটা চলে যাবে।

অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে

এলার্জির কারণে যাদের  শরীর চুলকায়, চুলকানোর জায়গাটা ফুলে লাল হয়ে যায়, ত্বক থাকা থাকা হয়ে ওঠে। তারা চিরতার শরণাপন্ন হয়ে ভালো থাকতে পারেন। অ্যালার্জি সারাতে চিরতার তিতা রস সাহায্য করতে পারে। আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে দিনের মধ্যে ২-৩ বারে খেতে হবে। সেই সাথে খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। যেসব খাবার খেলে অ্যালার্জি হয় সেসব খাবার খাওয়া আপাতত বন্ধ রাখতে হবে।

লিভার পরিষ্কার রাখে

যারা লিভারের সমস্যায় ভোগেন, তাদের এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে চিরতার পানি ।  চিরতার পানি লিভারকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়া লিভারের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ফ্যাটি লিভার ও আরও অন্যান্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।

 হাঁপানি উপশম করে

যাদের হাঁপানি আছে । অল্প ঠাণ্ডা লাগলে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি হয়ে হাঁপানির টানটা বেড়ে যায় । তারা আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো ৩ ঘণ্টা অন্তর মধুসহ চেটে খাবেন। এতে ২-৩ দিনের মধ্যে প্রবল হাঁপানি কমে যাবে।

আরো পড়ুন

লিভারের যত্ন : লিভার রোগের উপসর্গ : লিভার রোগের কারণ
চুলকানি সারাতে সাহায্য করে

শরীরের যে কোন স্থানে চুলকানি হলে ২০ গ্রাম চিরতাতে অল্প পানি ছিটিয়ে বেঁটে নিন । তারপর তা লোহার ১০০ গ্রাম সরষের তেল দিয়ে জ্বাল দিয়ে নিন । সরষের তেল গরম হয়ে ফেনামুক্ত হলে তাতে চিরতা ছাড়তে কড়াই বা তাওয়াতে হবে। ভালো করে ভাজা হলে নামিয়ে নিন । খেয়াল রাখতে হবে চিরতা যেন পুড়ে না যায়। এই তেল চুলকানোর জায়গায় ঘষে অল্প অল্প করে মালিশ করলে দ্রুত চুলকানি সেরে যাবে।

ত্বক ভালো রাখে
chirota.jpg
ছবি : শুকনা চিরতা -সংগ্রহীত

চিরতা  ত্বকের জন্যও উপকারি । ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন, চামড়ার ঘা, অন্যান্য ক্ষত সারাতে অনবদ্য। এছাড়াও ত্বকের অন্যান্য যেকোনো ইনফেকশন সারাতে এটি উপকারি। রোজ যদি চিরতার পানি খাওয়া যায় তাহলে স্কিন ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচা যায়। ত্বক ভালো থাকে।

রক্তশূণ্যতা দুর করে

চিরতা দেহে রক্তকোষ গঠন করে। তাই চিরতা সেবনে রক্তশূন্যতা কমে যায়। এমনকি ঋতুস্রাব বা মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাও কমাতে পারে। কোথাও কেটে গেলে সে কাটা স্থানে চিরতার রস লাগিয়ে দিলে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়। অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণ, নাক দিয়ে রক্তপড়া এসবও চিরতা বন্ধ করতে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

চিরতার মধ্যে শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা বার্ধক্যকে বিলম্বিত করে দিতে পারে। এমনকি নিয়মিত চিরতা সেবনে ক্যানসার ও হৃদরোগে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

চিরতা নিয়মিতভাবে খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে । চিরতা দেহে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

চুল পড়া কমায়

যাদের অতিরিক্ত চুল পড়ে তারা নিয়মিত চিরতা খেতে পারেন । এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে এক কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই পানি ছেঁকে তা দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে চুল ওঠা কমবে। একদিন পর পর একদিন এভাবে চিরতার পানি দিয়ে মাথা ধুতে হবে। ৩-৪ বার এভাবে ধুতে পারলে চুল ওঠা অনেক কমে যাবে।

আরো পড়ুন

কিডনি রুগি কি খাবেন ।। কি খাবেন না

Related posts

কোন কোন খাবারে আয়রন পাওয়া যায় : শরীরে আয়রনের প্রয়োজনীয়তা

jibondharaa

মারাত্মক সংক্রামক রোগ হেপাটাইটিস বি, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

jibondharaa

থাইরয়েড ক্যান্সার কত প্রকার । এর লক্ষণ ও চিকিৎসা ।

jibondharaa

Leave a Comment