Image default
দেশ বিদেশ

টিপ কান্ড ।। ইসলাম ফোবিয়া ছড়াচ্ছেন কিছু মানুষ ।

তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার যখন অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্য তাকে টিজ করে বলেছেন ‘টিপ পরছোস কেন’ । তখন এক শ্রেনীর মানুষ বুঝে না বুঝে বা ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেন ।

এক বিশেষ শ্রেনীর মহিলা, সেই সাথে কিছু পুরুষ (?) নিজেদের কপালে টিপ পরে ঐ শিক্ষিকার পক্ষে রাস্তায় নেমে পড়েন । তাদের দাবীর মুখে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।

ঘটনার এখানেই শেষ হলে বোধহয় ভালো হতো । কিন্তু আন্দোলনকারীরা, ঐ পুলিশ সদস্যের মুখে দাড়ি আছে, এটা বারবার হাইলাইটস করতে থাকেন । সেই সাথে হিজাব এবং ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হতে থাকে ।

কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট বলছে, পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেক এবং ঐ শিক্ষিকার মধ্যে তর্কাতর্কির প্রমান তারা পেয়েছেন । কিন্তু টিপ নিয়ে কুটুক্তির কোন প্রমাণ তারা পাননি ।

ঘটনায় প্রকাশ, গত ২ এপ্রিল, তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দারের সাথে পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেকের মোটর সাইকেলের ধাক্কা লাগে । এই ঘটনায় দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয় ।

এই ঘটনার পরে শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার ”পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে গালি দিয়েছেন উল্লেখ করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন”।

এই ‘টিপ পরছোস কেন’ কথাটি হাইলাইটস করার কারণেই মুলত সারা দেশে ব্যপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজপথে একদল নারী – পুরুষ ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেন । এমনকি পুরুষরাও নিজেদের কপালে টিপ পরে সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে ছবি দিতে থাকেন ।

এই প্রেক্ষাপটে ঐ পুলিশ সদস্য সাময়িক বহিষ্কার হলেন । যেহেতু ঐ পুলিশের মুখে দাড়ি আছে, সেহেতু একদল মানুষ দাড়ি ওয়ালা মানুষ, মুসলিম এবং হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করতে থাকে । মুলকথা ইসলামকেই কাটগড়ায় তোলা হয় এই ঘটনায় ।

কিন্তু পুলিশি তদন্ত কি বলছে ?

পুলিশ তদন্ত করে যেটা পেয়েছে সেটা হলো, সেদিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ওই নারীর বাকবিতণ্ডার সত্যতা পেলেও তা বাইকের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে হয়েছিল ।  তদন্ত কমিটি ও পুলিশের বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, উল্টো পথে বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় লতা সমাদ্দারের পায়ে বাইক লাগলে পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেকের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয় ।

কিন্তু শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার থানায় অভিযোগ করেন, পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে তাকে গালি দিয়েছেন । তিনি এই কথার প্রতিবাদ করলে, নাজমুল তারেক তার গায়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন । সেজন্য জড়িত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত দাবি জানান তিনি ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা, সেই সাথে অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের টিপ পরা ছবি পোস্ট করেন । যার প্রেক্ষিতে ঐ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । এরপর ঘটনা অনুসন্ধানে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি ।

তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মহোদয়ের বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হয় । প্রাথমিক তদন্তে, তদন্ত কমিটি তর্কাতর্কির সত্যতা পেলেও তা বাইকের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে প্রমাণ পায় ।

আরো পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলামের  জীবনী

ডিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর তদন্ত কমিটি লতা সমাদ্দার ও কনস্টেবলকে পৃথক পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে । ওই কনস্টেবলের কাছে পৃথকভাবে পুরো ঘটনা জানতে চায় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা । অন্যদিকে লতা সমাদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেছেন, তার সঙ্গে ঐ পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। আর সেই বাকবিতণ্ডার সূত্র হয় মোটরসাইকেলের ধাক্কাকে কেন্দ্র করেই ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করেছে সেখানে টিপের বিষয়টি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়নি । মূলত পায়ে মোটরসাইকেল এর ধাক্কা লাগার কারণ থেকেই ঝগড়াবিবাদ হয় । এটি প্রমাণিত হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি ।

ডিএমপি পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, টিপকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত না হলেও সেই নারীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেবে না পুলিশ । তবে বাকবিতণ্ডার বিষয়টিকে টিপকাণ্ডে পরিণত করে গুজব ছড়ানোয় পুলিশের মানমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে । এটা একেবারেই অনাকাঙ্খিত । তদন্তে অবশ্য উল্টো পথে গাড়ি চালানোয় ঐ পুলিশ কনেস্টবলকে দোষী শাব্বস্ত করা হয়েছে ।

পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণে যেটা বোঝা যাচ্ছে , পুলিশের সাথে তর্কাতর্কির পরে ঐ পুলিশকে সায়েস্তা করার জন্য শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার পরিকল্পিতভাবে টিপ নিয়ে টিজ করার অভিযোগটি আনেন । আর এই সুযোগে যারা ইসলাম ফোবিয়ায় ভোগেন, তারা রাস্তায় নেমে পড়েন । আর এটিই হয়ে আসছে বছরের পর বছর ।

কিন্তু এইভাবে আর কতদিন ? প্রায়ই দেখা যায় একশ্রেনির বুদ্ধিজীবি, কিছু চিহ্নিত মিডিয়া সুযোগ পেলেই ইসলাম এবং মুসলমানদের আসামির কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করেন । আর এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার সুযোগটি নিলেন ।

এভাবে কাউকে সায়েস্তা করতে হলে তাকে জঙ্গি, জামাত – শিবির , রাজাকার , ধর্মান্ধ, ইত্যাদি  ট্যাগ দেওয়ার এই যে কালচার, এটা খুব বেশীদিন আগে চালু হয়নি । এই অপকালচার এখনই বন্ধ করা না গেলে, এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতেই থাকবে । যেটা কারো জন্যই কল্যাণকর হবেনা ।

Related posts

নির্বাচনী সংঘাত : চার মাসে মারা গেছেন ৬৬ জন !

jibondharaa

বিতর্কিত রাজনীতিক জয়নাল হাজারী আর নেই

jibondharaa

মদের লাইসেন্স নিয়ে বিতর্ক : কি আছে বিধি মালায় ?

jibondharaa

Leave a Comment