Image default
দেশ বিদেশ

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যত অপরাধ ।

এটা পুরাতন খবর যে বহু নাটকীয়তার পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়েছেন ইমরান খান । পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম একজন প্রধানমন্ত্রীকে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে । পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের ৩৪২জন সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন সদস্য তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে ভোট দেন ।
আমরা সে আলোচনায় যাব না । আমরা জানার চেষ্টা করবো মুল সমস্যা আসলে কি ছিল যে কারণে ইমরান খানকে ক্ষমতা হারাতে হলো ?

যদিও পাকিস্থানে এপর্যন্ত কোন প্রধানমন্ত্রী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি । তবুও মনে হচ্ছিল যেন ইমরান খান প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই ইতিহাস বদলাতে পারবেন । কিন্তু, সব হিসাব পাল্টে যায় রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পর । পশ্চিমা কর্মকর্তারা তদ্বির করছিলেন যেন ইমরান খান ভ্লাদিমির পুতিনের নিন্দা জানান । কিন্তু তাতে সাড়া দেননি ইমরান খান । তিনি প্রকাশ্যে ঘোষনা দেন “পাকিস্থান কারো গোলাম নয়” । এর পরই ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে জোর প্রচেষ্টা শুরু হয় ।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ ছিল ?

ইমরান খানের বিরুদ্ধে মুলতঃ দুটি অভিযোগ এনেছিলেন তার বিরোধীরা ।
১. অর্থনৈতীক মন্দা
২. ভুল পররাষ্ট্রনীতি
অর্থনৈতীক মন্দার জন্য ইমরান খানকে দায়ি করা হলেও, আসলে পাকিস্থানের অর্থনীতি কখনই খুববেশি ভাল অবস্থানে ছিলনা । রাজনৈতীক অস্থিতিশীলতার কারণে পাকিস্থানের অর্থনীতি আগাতে পারেনি কখনই । আর ইমরান খান মাত্র সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় থেকে এমন কিই বা করতে পারেন ।
আর ভুল পররাষ্ট্রনীতির যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সেটা মূলত আমেরকিার ইঙ্গিতে করা হয়েছে । এর আগে পাকিস্থানের সবগুলো সরকার আমেরিকার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলতো । বা পাকিস্থানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল আমেরিকা ঘেষা । কিন্তু ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর সে নীতি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন ।
ইমরান খান জোর চেষ্টা করেছিলেন, তুরস্ক, ইরান, মালয়েশিয়াসহ কিছু মুসলিম দেশের সাথে জোট করে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরী করতে । এজন্য তিনি তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে তৎপর ছিলেন । পশ্চিমা বিশ্ব এবং তাদের মিত্ররা বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত ছিল ।

আরো পড়ুন

টিপ কান্ড ।। ইসলাম ফোবিয়া ছড়াচ্ছেন কিছু মানুষ ।
সেনাবাহীনির সাথে দুরত্ব

ইমরান খানের সাথে পাকিস্থানের সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়ার সম্পর্কের টানাপড়েন চলছিল । ইমরান খান যখন রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধে নিরব ভূমিকা নেন । এমনকি আমেরিকার প্রত্যাশা সত্ত্বেও রাশিয়া নিন্দা করতে অশ্বিকার করেন । পাকিস্থানের সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়া তখন বিবৃতি দেন, “ রাশিয়ার অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে” ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়া এবং গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়েজ হামিদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়া ।
ফায়েজ হামিদ পরিবর্তী সেনাপ্রধান হওয়ার আশা পোষণ করতেন । গত অক্টোবর মাসে তাদের দুজনের বিরোধ চরমে পৌঁছায় এবং এর মধ্যিখানে পড়ে যান ইমরান খান । ইমরান খান চেয়েছিলেন গোয়েন্দা প্রধান ফায়েজ হামিদ আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তার পদে থাকবেন । কিন্ত সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়া, ফায়েজ হামিদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেন । লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়েজ হামিদের সাথে ইমরান খানের বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল । সেনাবাহিনী ইমরান খানের মিত্রদের সরিয়ে দিয়ে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জায়গা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনছিল ।
গুজব রয়েছে এ সবই হচ্ছিল আমেরিকার ইঙ্গিতে ।

ইমরান খানের সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমরান খান ১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর পাকিস্থানের লাহোরে জন্মগ্রহন করেন । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন ক্রিকেটার হলেও, অক্সফোর্ড এর কেবেল কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন । তিনি পাকিস্থানের অধিনায়ক হিসাবে ১৯৯২ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করেন । তিনি ছিলেন ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন ।
১৯৯৬ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন ইমরান খান । দুর্নীতি বিরোধী স্লোগানে ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠা করেন তার দল, ”পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ” ।
২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট হয়ে পারভেজ মোশারফ তৎকালীন সেনা প্রধানের পদে থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছিলেন । ইমরান খান ওই নির্বাচনের বিরোধিতা করেন । এবং ওই বছরের ২ অক্টোবর ৮৫ জন পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে পদত্যাগ করেন । সে বারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হয়ে পারভেজ মোশারফ পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি করে । অন্য অনেকের সাথে ইমরান খানকে গৃহবন্দী করা হয় । ওইসময় তিনি কিছুদিন হাজতবাস করেন । ২০১৩ সালে পাকিস্তানের ১০তম নির্বাচনে তার দল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে । আর ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানের ১১ তম জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ আসন সংখ্যার বিচারে সর্ববৃহৎ দলে পরিণত হয় । তিনি ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন ।

এখন কি হবে পাকিস্থানে ?

এখন অপেক্ষা করার পালা । পাকিস্থানের আগমী দিন কেমন হবে, সে বিষয়ে ভবিষ্যৎবানী করা খুব কঠিন । তবে ইমরানের বিরুদ্ধে যারা দাড়িয়ে ছিলেন তারাও নানান মতের মানুষ । বিভিন্ন দল এক হয়ে তবেই ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছেন । এখন তারা ঐক্য ধরে রেখে ক্ষমতা চালাতে পারবে কিনা সেটাই দেখার বিষয় ।
আর তরুন প্রজন্মের মধ্যে ইমরান খানের জনপ্রিয়াতা রয়েছে । সেই জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে আগামী ২৩ সালের নির্বাচনে তিনি আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসবেন নাকি এখানেই তার রাজনীতির ইতি ঘটবে সেটাই দেখার বিষয় ।

Related posts

নির্বাচনী সংঘাত : চার মাসে মারা গেছেন ৬৬ জন !

jibondharaa

জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় জামায়াত

jibondharaa

আঙ্গুল হারালেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী !

jibondharaa

Leave a Comment