Image default
স্বাস্থ্য

ইকোকার্ডিওগ্রাফি কি : কেন করা হয়

ইকোকার্ডিওগ্রাম হার্টের পরীক্ষা । অনেক সময় হার্টে ব্লক তৈরী হয়, ভাল্বে সমস্যা হয় বা হার্টে ছিদ্র থাকে । এই সমস্ত সমস্যা নির্নয়ের জন্য ইকোকার্ডিওগ্রাম করা হয় । আজ আমরা ইকোকার্ডিওগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো ।

ইকোকার্ডিওগ্রাফি কি :

ইকোকার্ডিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রাফি হার্টের একধরনের পরিক্ষা পদ্ধতি যাতে আলট্রাসাউন্ড ওয়েভ ব্যাবহার করে হার্টের বিভিন্ন অংশ দেখা হয় । আলট্রাসাউন্ড ওয়েভ গতিশীল হৃৎপিণ্ডের লাইভ চিত্র তৈরি করে, যা ইকোকার্ডিওগ্রাফি নামে পরিচিত। ইকোকার্ডিওগ্রাফির মাধ্যমে হার্টের কার্যক্ষমতা , রক্ত সঞ্চালন , ভাল্ব এবং প্রকোষ্ঠের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয় । হৃদরুগীর বর্তমান অবস্থা বুঝে করণীয় নির্ধারণে এ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে । এছাড়া হৃদপিন্ডের ভাল্ব জটিলতায় ভুগছেন এমন রোগীর অগ্রগতি নির্ণয় কিংবা অস্ত্রপচার পরবর্তীতে রুগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এ পরীক্ষা করা হয় ।

প্রস্তুতি :

সাধারণত ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য তেমন কোন পূর্ব প্রস্তুতি লাগে না। কোন কোন ডাক্তার ইকোর পূর্বে ইসিজি রিপোর্ট দেখতে চান । এবং ইকো করার পূর্বে কিছু সময় বিশ্রামে থাকতে বলেন । তাছাড়া স্বাভাবিক খাবার খেয়ে টেস্টের জন্য যেতে হয় । আর যদি রুগী হৃদরোগের জন্য নিয়মিতভাবে ওষুধ খেয়ে থাকেন তবে সে ওষুধও খেতে হবে। গুরুতর রুগীদের ক্ষেত্রে ইসিজি ছাড়াই ইকো করা হয়। তাছাড়া বাচ্ছাদের ক্ষেত্রে ইসিজি রিপোর্ট লাগেনা

পরীক্ষা :

শরীরের জামা খুলে খালি গায়ে পরীক্ষাটি করতে হয় । রুগীকে বাম দিকে কাত হয়ে শুয়ে পড়তে বলা হয় । পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ মনিটরের জন্য রুগীর বুকে তিনটি ইলেকট্রোড চিপস লাগানো হয়। আলট্রাসাউন্ড উৎপাদনকারী ট্রান্সডিউসারটি রুগীর বুকে রেখে আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে ছবি নেয়া হয়। পরিষ্কার ছবি পেতে চামড়ায় এবং ট্রান্সডিউসারটির প্রান্তে এক ধরনের জেল ব্যাবহার করা হয়। এটি চামড়ার উপর কোন ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না ।

ইকোকার্ডিওগ্রাফি কি কি কারণে করা হয়

হৃদপিন্ড কত ভালভাবে রক্ত পাম্প করছে তা পরীক্ষা করা ।

অস্বাভাবিক ইসিজি (ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম) এর কারন অনুসন্ধান করা । যেটার কারনে হার্টবিট উঠানামা করে ।

হৃদপিন্ডে টিউমার থাকলে সেটার অবস্থান নির্নয় করা ।

হৃদপিন্ডে রক্ত জমাট বাধলো কিনা যাচায় করা

হার্টে ছিদ্র বা ব্লক আছে কিনা যাচায় করা ।

হার্টের পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া এবং হার্টের পাম্পিং দুর্বল হওয়া ।

হার্টের ভাল্ব এবং চেম্বার অনেক সময় বড় হয়ে যায় সেটা যাচাই করা ।

পালমোনারি হাইপারটেশন ( উচ্চ রক্তচ্প ) রোগ নির্ণয় ।

শিশুদের জন্মগত হার্টের সমস্যা নির্ণয়।

পেসমেকার, কৃত্রিম ভাল্ব বসানোর পরে সেটার পর্যবেক্ষণ করার জন্য ।

হার্টের সাইজ অনেক সময় বড় হয়ে যায় , সেটা যাচায় কেরা ।

হার্টে পানি জমতে পারে , সেটা যাচায় করা ।

আরো পড়ুন

জরায়ু মুখের ক্যান্সার কেন হয় ? এর লক্ষণ , প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা ।
heart-1.jpg
হার্ট এবং হার্টের ইকোর ছবি

হার্টে চাপ অনুভব করলে সেটার কারন যাচায় করা ।

ইকোকার্ডিওগ্রাম কত ধরনের হয়ে থাকে ?

ইকোকার্ডিওগ্রাম এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে । তবে আজ আমরা সচারচর যে ইকো প্রয়োজন হয় এমন তিনটি ইকো নিয়ে আলোচনা করবো । এই তিন ধরনের ইকো দিয়ে উপরে উল্লেখিত সব সমস্যা নির্নয় করা সম্ভব ।

ইকোকার্ডিওগ্রাম 2D

এটি সাধারণ ধরনের ইকো । হার্টের সাধারণ সমস্যা যাচায়ের ক্ষেত্রে ডাক্তাররা এটি করাতে বলেন । ইকো 2D করার সময় হৃৎপিণ্ডের অঞ্চলের কাছে বুকের বাম অংশে একটি আল্ট্রাসাউন্ড ওয়ান্ড স্থাপন করা হয়, যা ট্রান্সডুসার নামে পরিচিত । ডিভাইসটির মাধ্যমে হার্টে শব্দ তরঙ্গ পাঠানো হয় । এরপর একটি কম্পিউটার মনিটরে হার্টের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয় ।

আরো পড়ুন

কোলোনোস্কোপি কি , কোলোনোস্কোপি সম্পর্কে জানুন ।
কালার ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাম

রক্তের প্রবাহ পরীক্ষা করতে ইকো কালার ডপলার কার্যকর । হার্টে যদি ব্লক থাকে তাহলে কালার ডপলার ইকোর সাহায্যে সেটি সহজেই নির্নয় করা যায় । ইকো কালার ডপলার করার সময় শব্দ তরঙ্গগুলি কীভাবে বাউন্স অফ হয়ে তারপর ট্রান্সডুসারে ফিরে আসে তা নির্ধারণ করতে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে শব্দ তরঙ্গ তৈরি হয় । এছাড়া হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবাহের গতিবেগ এবং দিক ম্যাপ করতে এটি ব্যবহার করা হয় । ট্রান্সডুসারের দিকে প্রবাহিত রক্ত লাল রঙের দেখায়, অন্যদিকে প্রবাহিত রক্ত নীল রঙে দেখা যায় । একটি কালার ডপলার ইকো হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব, বা হৃদপিণ্ডের দেয়ালে গর্তের সমস্যা নির্ণয় করতে এবং কীভাবে রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তার মূল্যায়ন করতে সহায়তা করে ।

ভ্রূণের ইকোকার্ডিওগ্রাম

প্রতি ১০০০ নবজাতক শিশুর ১ জন শিশু হার্টে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহন করে । যদি আলট্রাসাউন্ড ডাক্তার মায়ের পেটের ভিতর শিশুর হার্টে কোন সমস্যা অনুধাবন করেন তবে তিনি পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টি এর সাজেস্ট করেন । পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টি প্রয়োজন মনে করলে ভ্রুণের ইকোকার্ডিওগ্রাম করে থাকেন । এই পরীক্ষাটি সাধারণত গর্ভাবস্থার ১৮ থেকে ২২ সপ্তাহের ভিতর করা হয় । এই পদ্ধতির ইকোকার্ডিওগ্রাম করার সময় বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না এবং তাই শিশু বা মায়ের জন্য ক্ষতিকর কোন প্রভাব ফেলে না ।

Related posts

লম্বা হওয়ার সঠিক উপায় । লম্বা হওয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক  উপায়

jibondharaa

শুচিবাই বা ওসিডি কেন হয় ? এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

jibondharaa

শীতে শিশুর যত্ন ও পরিচর্যা

jibondharaa

Leave a Comment